আমারও মেয়ে আছে...

 


  • হ্যালো
  • আংকেল, আপনি আমাদের সাথে যাবেন না।
  • কেনো মা?
  • আমার ভালো লাগবে না, তাই।
  • ও আচ্ছা। তবে কি মা, ট্রেন তো অনেক লম্বা। আমি পেছনের দিকে যে কোনো একটা বগিতে করে ঢাকায় ফিরে যাবো। তুমি বুঝতেই পারবে না। ঠিক আছে, মা?
  • আচ্ছা।
বেলা ১১ টা। আমার বান্ধবী ফোন দিলো।
  • আমি কুমিল্লা যাচ্ছি মেয়েকে আনতে, তুমি যাবে আমার সাথে?
আমি রাজি হয়ে গেলাম। অফিস ফাঁকি! সায়েদাবাদ থেকে কুমিল্লা পৌঁছতে পৌঁছতে বেলা প্রায় আড়াইটে বেজে গেলো। ও মেয়ের বাবার কাছ থেকে মেয়েকে আনতে চলে গেলো। আর আমি কুমিল্লা রেল স্টেশনে পায়চারি করে সময় পার করে চলেছি। ঢাকায় ফেরবার ট্রেন বিকেল পাঁচটায়।
ওরা মা-মেয়ে স্টেশনে এলো। দেখা হলো, মেয়েটার সাথে কথা হলো না শুধু মুচকি হাসি বিনিময় ছাড়া। ট্রেন এসে পড়লো। বেশ ভীর। ঠেলাঠেলি করে উঠে কোনো রকমে সিট জোগার করলাম। মেয়েকে আমার সাথেই বসতে হলো। এবার জানালাটা খোলার পালা এলো। এলুমিনিয়ামের সাটারটার লক নষ্ট, তাই একেবারে তুলে খোলা রাখা যাচ্ছে না। ম্যাচের কাঠি দিয়ে ইঞ্জিনিয়ারিং করলাম। জানালা খোলা রাখতে সফল হলাম। সক্ষম হলাম মেয়েটার কাছে কিঞ্চিত হিরো হবার। মেয়ের কাছে বাবা তো হিরোই।
ঢাকায় ফিরতে ফিরতে রাত প্রায় নয়টা বেজে গেলো। উত্তরায় ওদের বাসায় পৌঁছে দিয়ে আমি আমার বাসায় ফিরে এলাম।
কয়েকদিন পর বন্ধুটি আমায় ফোন দিয়ে বললো যে দুপুরে বাসায় খাবার নিয়ে যেতে পারবো কি-না। মেয়েটা বাসায় একা। বলে রাখি, বন্ধুটি আমার চাকুরী করে।
আমি তুন্দু রুটি আর মুরগীর গ্রীল নিয়ে বাসায় গেলাম। মেয়েটি তার এই হিরোকে দেখে লজ্জায় পড়ে গেলো মনে হলো। ঐ যে ট্রেনে একসাথে আসতে বারন করেছিলো কি-না?
আমি নিজ হাতেই ওকে খাইয়ে দেবার সিদ্ধান্ত নিলাম। ও বড় বড় চোখে ড্যব-ড্যব করে তাকিয়ে আছে, খেয়ে যাচ্ছে আপত্তি না করেই...
সেই শুরু।
একদিন সন্ধ্যায় আমি আর আমার মেয়ে বসুন্ধরা সিটিতে ধুরতে আসি। ফুডকোর্টে বসে আমি মা'কে আর মা আমাকে খাইয়ে দিচ্ছি। আশেপাশে এতো এতো মানুষ। কি এসে যায়? মেয়ে তার বাবা খুঁজে পেয়েছে, আমি মেয়ের বাবা হতে পেরেছি,...

Post a Comment

Previous Post Next Post